• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডাকাতির ৬৪৩ কার্টুন সয়াবিন তেল মিলল শেরপুরে, পুলিশের জালে দুইজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ২লাখ ২২হাজার টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার এক হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কুড়িগ্রামে যাত্রাপুর ইউনিয়ন এনসিপির কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কর্মসুচী

পবিত্র রমজানে খতম তারাবির ফজিলত, তাৎপর্য ও আদব

অনলাইন ডেস্ক / ১৮০ Time View
Update : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান আমাদের দোরগোড়ায়। এই মাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হলো খতম তারাবি। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কোরআন নাজিলের এই মাসে তারাবির নামাজে পবিত্র কোরআন খতম করা মুসলিম উম্মাহর এক দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য ও মহান সুন্নাহ।

​পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, “রমজান মাস সেই মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে” (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এই মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত জিবরাঈল (আ.)-কে পুরো কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। সেই সুন্নাহর অনুসরণে তারাবির নামাজে পুরো কোরআন খতম করার বিধান মুমিনদের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।

খতম তারাবির বিশেষ ফজিলত

​ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, খতম তারাবির মাধ্যমে একজন মুমিন বিশেষ কিছু সওয়াব অর্জন করেন:

  • পূর্ণাঙ্গ তিলাওয়াতের সওয়াব: জামাতের সাথে খতম তারাবি পড়লে পুরো কোরআন শোনার সওয়াব অর্জিত হয়। প্রতিটি হরফ পাঠের বিনিময়ে সাধারণত ১০টি নেকি পাওয়া গেলেও রমজানে তা বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।
  • পুরো রাত ইবাদতের মর্যাদা: হাদিস শরিফে এসেছে, “যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত তারাবির নামাজ আদায় করবে, তাকে পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব দেওয়া হবে” (তিরমিজি)।
  • কোরআনের সাথে নিবিড় সংযোগ: সারা বছর যারা ব্যস্ততার কারণে কোরআন তিলাওয়াতের পর্যাপ্ত সময় পান না, খতম তারাবি তাদের জন্য আল্লাহর বাণী আদ্যোপান্ত শোনার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়।

সামাজিক ও মানসিক তাৎপর্য

​খতম তারাবি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এর সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কোরআন শোনা মুমিনের ধৈর্য (সবর) ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। একই পাড়া বা মহল্লার মানুষ যখন দীর্ঘ সময় এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল থাকে, তখন তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতি তৈরি হয়। তিলাওয়াত শ্রবণের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় বা ‘তাকওয়া’ সৃষ্টি হয়, যা মুমিনের চরিত্র গঠনে সহায়ক।

সতর্কতা ও আদব

​খতম তারাবির পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে কিছু বিষয়ের দিকে নজর রাখা জরুরি বলে মনে করেন ওলামায়ে কেরাম। হাফেজদের উচিত খুব দ্রুত তিলাওয়াত না করে স্পষ্ট ও শুদ্ধভাবে (তাজবিদসহ) পড়া, যাতে মুসল্লিরা আয়াতের মর্ম বুঝতে পারেন। পাশাপাশি এটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা লোকদেখানো (রিয়া) না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আদায় করা আবশ্যক।

​পরিশেষে, খতম তারাবি রমজানের এক নূরানি অনুষঙ্গ। এটি মুমিনের ঈমানকে সতেজ করে এবং কিয়ামতের ময়দানে কোরআনের সুপারিশ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করে। তাই পবিত্র রমজানের বরকত পূর্ণরূপে হাসিল করতে খতম তারাবিতে শরিক হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা