আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। নীলফামারী-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লায়। থেমে নেই অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমের প্রচারও। বিএনপি-র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। এতে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মাঠে নেমেছেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি প্রার্থীরাও।
স্থানীয়দের অভিমত
- স্বৈরাচার সরকারের সময় বিএনপি ও জামায়াতের ওপর হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন চালানো হয়।
- এখন সেই ভয় না থাকায় প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
- গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাটবাজারে ফেস্টুন-ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।
- বিএনপি শক্ত অবস্থানে, জামায়াত চমক দেখাতে চায়।
ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
- বিলকিস ইসলাম সপ্না – বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য
- আব্দুল্লাহ আল মামুন – কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি
- বেবী নাজনীন – বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কণ্ঠশিল্পী
- আলহাজ্ব গফুর সরকার – সৈয়দপুর বিএনপি সভাপতি
অন্যান্য দলের প্রার্থী
- এ্যাড. হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম – জামায়াতের প্রার্থী
- আবু সাঈদ লিওন – এনসিপি
- শহিদুল ইসলাম – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
প্রধান আলোচ্য প্রার্থী: আব্দুল্লাহ আল মামুন
১৯৯৩ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০০১-২০০৯ পর্যন্ত যুবদলের কিশোরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক। ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। ২০১৫ সালে জেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। ২০১৯ সালে উপজেলা আহ্বায়ক এবং ২০২৩ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।
- দুই উপজেলার মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
- বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।
- গ্রাম, মহল্লা, হাটবাজারে উঠান বৈঠক ও পথসভা করছেন।
ভোটারদের মতামত
- কৃষক আবু বক্কর: এবার সঠিকভাবে ভোট দিতে পারলে ভালো প্রার্থীকে ভোট দেব।
- তরুণ ভোটার সাগর: প্রথম ভোট, নিজের ভোট নিজেই দিতে চাই।
- কোনা মামুদ: এখন মানুষ দল নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেবে।
নির্বাচনী প্রশাসনিক প্রস্তুতি
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ ও মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়ের কাজ চলছে পুরোদমে।
বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন-এর মধ্যে। ফলে এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।