• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডাকাতির ৬৪৩ কার্টুন সয়াবিন তেল মিলল শেরপুরে, পুলিশের জালে দুইজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ২লাখ ২২হাজার টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার এক হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কুড়িগ্রামে যাত্রাপুর ইউনিয়ন এনসিপির কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কর্মসুচী

শেরপুরে ড্যাপ সার সংকট: ভুট্টা ও আলু চাষে চরম বিপর্যয়, কৃষকদের দুঃসময়

শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি / ১৬৪ Time View
Update : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া ড্যাপ (DAP) সার সংকটের কারণে ভুট্টা ও আলুর বপন মৌসুম চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রয়োজন মতো সার না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আর কিছু সার মিললেও তা পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যে, যা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। মৌসুমি এই ফসল চাষে সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে।

জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ড্যাপ সারের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কৃষকদের ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক বস্তা সার কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে তাদের।

সুঘাট ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন,
“সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলে সাপ্লাই নাই, অথচ বাজারে ঘুরলেই সার পাওয়া যায়—কিন্তু বেশি দামে। আমি আমার এলাকায় সার না পেয়ে অন্য এলাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সার কিনে চাষাবাদ করছি। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ করব কীভাবে?”

শালফা গ্রামের কৃষক মো. মামুন জানান,
“গত সপ্তাহে ১ হাজার ৩০০ টাকায় ড্যাপ সার কিনে কয়েক বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এখন আরও ৪ বিঘা জমি প্রস্তুত। ভুট্টার বীজ রেডি, কিন্তু সার না থাকায় বপন করতে পারছি না। যে সার পাওয়া যাচ্ছে তার দাম চাচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সংকট আগে দেখিনি। বাধ্য হয়ে দেড় হাজার টাকার বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।”

স্থানীয় ডিলাররা বলেন, নতুন সার এখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি, তাই কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে খুব দ্রুত সার এসে যাবে বলে জানান তারা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—খুচরা বিক্রেতারা তাহলে কোথা থেকে সার পাচ্ছেন? স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে সাপ্লাই নেই বললেও কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন উপায়ে সার সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন,
“আগামী কালকের মধ্যেই ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি মূল্যেই সার বিতরণ করা হবে। খুচরা পর্যায়ে সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেলে বাজার মনিটরিং করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের যাতে বপন মৌসুমে সমস্যায় না পড়তে হয়, সে বিষয়ে আমরা নজরদারি করছি।”

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা