• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডাকাতির ৬৪৩ কার্টুন সয়াবিন তেল মিলল শেরপুরে, পুলিশের জালে দুইজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ২লাখ ২২হাজার টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার এক হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কুড়িগ্রামে যাত্রাপুর ইউনিয়ন এনসিপির কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কর্মসুচী

রাজবাড়ী পাংশায় কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

উজ্জ্বল চক্রবত্তী, রাজবাড়ী প্রতিনিধি / ১৩১ Time View
Update : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের হাটবনগ্রাম বাজার সংলগ্ন বারপল্লী মহাশ্মশান কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গত সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মহাশ্মশানের ছাদযুক্ত পাকা মন্দিরের বাইরে থেকে গ্রিল তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় বারান্দায় প্রবেশ করে শ্মশান কালী, মহাদেব, ডাকিনি যোগিনী ও সর্প প্রতিমায় ভাঙচুর চালায়। বিশেষ করে কালী ও মহাদেব প্রতিমার মুখমণ্ডল লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে মহাশ্মশানের পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা কালিপদ বর্মন এর স্ত্রী মমতা বর্মন (৬০) পুজা দিতে এসে প্রতিমাগুলোর ভাঙচুর অবস্থাটি প্রথম দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ভক্তবৃন্দ মন্দিরে উপস্থিত হন।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার এবং পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
পাংশা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, শ্মশানের মন্দির হওয়ায় সেখানে কোনো পাহারাদার থাকে না এবং সিসি ক্যামেরাও নেই। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে বড় বাঁশ বা লোহার কোনো বস্তু দিয়ে প্রতিটি প্রতিমার মুখ বিকৃত করে দিয়েছে। অতীতে এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কাজ যারা করেছে, তারা মানুষ নয়—অমানুষ। যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের এই ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমন কাজ করেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আমি শ্মশান কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু এই প্রতিমাগুলো অনেক আগেই বিসর্জন দেওয়ার কথা ছিল, তবে কোনো কারণে কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারেনি। এখন প্রতিমাগুলো বিসর্জন দিয়ে নতুন করে প্রতিমা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। তাদের ধারণা, কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা যাবে। আমরা সজাগ আছি, কোনো দুষ্কৃতীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এতে এলাকায় উদ্বেগ ও সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা