• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডাকাতির ৬৪৩ কার্টুন সয়াবিন তেল মিলল শেরপুরে, পুলিশের জালে দুইজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ২লাখ ২২হাজার টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার এক হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কুড়িগ্রামে যাত্রাপুর ইউনিয়ন এনসিপির কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কর্মসুচী

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমি উদ্ধার, পেটানো হলো ঢাক-ঢোল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ১৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমি উদ্ধার, পেটানো হলো ঢাক-ঢোল

 

পঞ্চাশের দশকের কথা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন আলেপ উদ্দিন। বন্ধকী টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা চলে যায় টাউন চেয়ারম্যানের (বর্তমান পৌর মেয়র) কাছে। চেয়ারম্যান সেই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন।
জমির আইনি দখল বুঝে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী আলেপ উদ্দিন। কিন্তু সুরাহা হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তার মৃত্যু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাদীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং আইনি লড়াই শুরু করেন। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, আরজি-আপিল চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ ৬৫ বছর আইনি লড়াই শেষে বুধবার নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছেন বাদী পক্ষ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকার।

বুধবার (১৩ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় বাদী পক্ষকে নালিশি জমির দখল বুঝে দেন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম।

মামলার বাদী পক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজ পাড়ায়। আর বিবাদী বছির উদ্দিনের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতি পাড়ায়। বছির উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়ারিশ হিসেবে তার ছেলেরা মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমিটি আলেপ উদ্দিনের ওয়ারিশ আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল স্বত্ব বুঝে দেন এসিল্যান্ড। এসময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে জমিটির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা উড়িয়ে সাত্তার গংকে জমির দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার উৎসুক লোকজন জড়ো হয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি উপভোগ করে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমির দখল স্বত্ব বুঝে পাওয়ায় বেজায় খুশি আব্দুস সাত্তারসহ চার ভাই। ৯ শতক জমির আইনি লড়াই হলেও সরেজমিন তাদেরকে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু জমি ছেড়ে দিতে হলেও সন্তান হয়ে পিতার জমি ফিরে পাওয়ায় ছেলেরা সন্তুষ্ট।

আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ আমার বাবার লড়াই আমরা চালিয়েছি। এটা খুব সহজ ছিল না। জমিটিতে এক সময় সরকার রিসিভার নিয়োগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নিতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি বেশি খুশি হতেন। আজ এতো বছর পর সন্তান হয়ে আমরা বাবার জমি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। এই জমি এখন আমাদের চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বন্টন করে নেবো।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা