• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডাকাতির ৬৪৩ কার্টুন সয়াবিন তেল মিলল শেরপুরে, পুলিশের জালে দুইজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ২লাখ ২২হাজার টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার এক হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কুড়িগ্রামে যাত্রাপুর ইউনিয়ন এনসিপির কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কর্মসুচী

সংগ্রামী এক অধ্যায়ের অবসান: রিংকু সিংয়ের বাবার প্রস্থান

অনলাইন ডেস্ক / ১২০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আলিগড়ের এক অন্ধকার গলির ভাঙাচোরা কোয়ার্টার থেকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, আজ তার এক পাক্ষিক যবনিকাপাত ঘটল। দারিদ্র্যের সঙ্গে আজীবন লড়াই করা এবং ছেলে রিংকু সিংকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার নেপথ্য কারিগর খানচাঁদ সিং না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। লিভার ক্যানসারের চতুর্থ স্তরের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে আজ ভোরে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জীবনের মায়া কাটিয়ে তার এই প্রস্থান সংবাদ যখন রিংকুর কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। পিতৃশোক আর দেশপ্রেমের দ্বন্দ্বে দীর্ণ রিংকু শেষ পর্যন্ত প্রিয় বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে আলিগড়ের পথে রওনা হয়েছেন।

​রিংকু সিংয়ের আজকের এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে তার বাবার অবদান কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। এক সময় অভাবের সংসারে বাবা চাইতেন না ছেলে ক্রিকেট খেলে সময় নষ্ট করুক। এমনকি ক্রিকেটের কারণে রিংকু বাবার হাতের মারও খেয়েছেন অনেক। কিন্তু সেই শাসনই একদিন বদলে গিয়েছিল সীমাহীন ত্যাগে। ছেলের ব্যাটে রানের চাকা সচল রাখতে এই খানচাঁদ সিং বছরের পর বছর সাইকেলের পেছনে ভারী এলপিজি সিলিন্ডার বেঁধে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। রিংকুর সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল এক স্কুল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে একটি মোটরবাইক জেতার মধ্য দিয়ে। সেদিন গ্যালারির আড়ালে দাঁড়িয়ে ছেলের ব্যাটিং দেখে খানচাঁদ বুঝেছিলেন, তার ছেলে শুধু খেলছে না, ইতিহাস গড়ছে। এরপর থেকে তিনি আর কোনোদিন রিংকুকে ক্রিকেটের জন্য বাধা দেননি।

​ছেলের অঢেল প্রতিপত্তি আর গ্ল্যামারের মাঝেও খানচাঁদ ছিলেন মাটির মানুষ। রিংকু অনেকবার অনুরোধ করলেও তিনি তার সেই পুরনো দুই কক্ষের কোয়ার্টার কিংবা সিলিন্ডার টানার কাজ ছাড়েননি। নিজের শিকড় আঁকড়ে থাকার এক বিরল মানসিকতা ছিল তার মধ্যে। তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজের অতীত ভুলে গেলে মানুষ তার অস্তিত্ব হারায়। গত বছর ছেলে একটি দামী স্পোর্টস বাইক উপহার দিলে তিনি সগর্বে জানিয়েছিলেন যে, আগে যারা তাকে গালি দিতেন এখন তারা তাকে ‘সাহেব’ বলে ডাকেন। মাঠের রিংকু সিং আজ হয়তো বড্ড একা হয়ে পড়লেন, কিন্তু তার প্রতিটি বাউন্ডারি আর প্রতিটি সাফল্যের মাঝে আজীবন মিশে থাকবেন সেই সংগ্রামী বাবা—যিনি নিজের কাঁধে কষ্টের বোঝা বয়ে ছেলের স্বপ্নের পথ মসৃণ করেছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা